Home / উৎপাদন / বিক্রি নেই, গাড়ির উৎপাদন কমানোর পথে সংস্থাগুলি

বিক্রি নেই, গাড়ির উৎপাদন কমানোর পথে সংস্থাগুলি

টানা সাত মাস ধরে গাড়ি বাজার এবং গাড়ির উৎপাদনে এই মন্দার প্রভাব ছাপ ফেলছে কর্মসংস্থানেও। গাড়ি শিল্পে কর্মসংস্থান কমে গিয়েছে। দেশের গাড়ির ডিলারগুলির কাছে প্রায় ৩৫,০০০ কোটি টাকা মূল্যের ৫ লক্ষেরও বেশি গাড়ি অবিক্রিত পড়ে রয়েছে।

গাড়ির উৎপাদন কমানোর পথে সংস্থাগুলি
এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: গাড়ির বিক্রি কমছে। মারুতি, মাহিন্দ্রা, টাটা মোটরস সহ দেশের প্রথম ১০টির মধ্যে সাতটি গাড়ি তৈরির সংস্থাই তাই বাধ্য হয়ে উৎপাদন কমাচ্ছে। মে মাসে ১৮ শতাংশ উৎপাদন কমিয়েছে মারুতি। বিক্রি কমছে বলে গত চার মাস ধরেই সংস্থাটি কম গাড়ি তৈরি করছে। বাকি সংস্থাগুলিও চলতি ত্রৈমাসিকে উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মাহিন্দ্রা ১৩ দিন পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করছে।

টানা সাত মাস ধরে গাড়ি বাজার এবং গাড়ির উৎপাদনে এই মন্দার প্রভাব ছাপ ফেলছে কর্মসংস্থানেও। গাড়ি শিল্পে কর্মসংস্থান কমে গিয়েছে। দেশের গাড়ির ডিলারগুলির কাছে প্রায় ৩৫,০০০ কোটি টাকা মূল্যের ৫ লক্ষেরও বেশি গাড়ি অবিক্রিত পড়ে রয়েছে। দু’চাকার ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটা প্রায় ৩০ লক্ষ, যার অর্থ মূল্য ১৮,০০০ কোটি টাকার মতো!

মারুতি সুজুকি, টাটা মোটরস এবং মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা সহ দেশের প্রথম সারির ১০টি গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থার মধ্যে সাতটি সংস্থাই মে এবং জুন মাসের মধ্যে কারখানা বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করেছে। কয়েকটি সংস্থা ইতিমধ্যেই তাদের কারখানা বন্ধ করেছে, কয়েকটি আগামী কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ করবে।

এ প্রসঙ্গে টাটা মোটরসের প্যাসেঞ্জার ভেহিকল বিভাগের প্রধান মায়াঙ্ক পারিক বলেন, ‘বিক্রিতে মন্দার সময় নতুন উৎপাদন করে গাড়ির মজুত বাড়ানোর কোনও মানে হয় না। মে মাসের চাহিদার উপর ভিত্তি করে আমরা উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করেছি। জুন মাসেও করা হবে।’

গাড়ি সংস্থাগুলি উৎপাদন বন্ধ রাখার ফলে মে ও জুন মাসে এই শিল্পক্ষেত্রের মোট উৎপাদন ২০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ কমবে। পাশাপাশি, কারখানায় ও ডিলারদের কাছে অবিক্রিত গাড়ির মজুত কমবে।

গাড়ি শিল্পে মন্দার সব থেকে বেশি প্রভাব পড়েছে ডিলার সংস্থাগুলির উপর। ডিলার সংস্থাগুলির কাছে সাধারণত যে পরিমাণ গাড়ি মজুত থাকে তার থেকে ৫০ শতাংশ বেশি গাড়ি মজুত রয়েছে। আর ডিলার সংস্থাগুলিকে যেহেতু অবিক্রিত গাড়ির উপরেও জিএসটি দিতে হয়, তাই তাদের আর্থিক বোঝাও বইতে হচ্ছে।

মে মাসে বেশ কিছুদিন উৎপাদন বন্ধ রেখেছিল মারুতি, মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা এবং টাটা মোটরস। এই গাড়ি সংস্থাগুলির সঙ্গে হন্ডা কারস ইন্ডিয়া, রেনোঁ-নিসান এবং স্কোদা অটো এ মাসে আর এক দফায় চার থেকে দশ দিন কারখানা বন্ধের পরিকল্পনা নিয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কারখানা বন্ধ রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।

মারুতি সুজুকি, হন্ডা কারস ইন্ডিয়া, রেনো-নিসান এবং স্কোদার মুখপাত্রের কথায়, পরিকল্পনামাফিক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। শেয়ার বাজারকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে মাহিন্দ্রা জানিয়েছে, তাদের উৎপাদনকারী শাখা মাহিন্দ্রা ভেহিকল ম্যানুফ্যাকচারার্স ২০১৯-২০ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে পাঁচ থেকে তেরো দিনের জন্য কারখানা বন্ধ রাখা হবে। বাজারের চাহিদা পূরণের জন্য তাদের কাছে পর্যাপ্ত গাড়ি রয়েছে, জানিয়েছে সংস্থাটি।

About admin

Check Also

প্রতি মৌসুমে ফল সংগ্রহ করতে হত্যা করা হয় ২৭ লাখ পাখি!

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি জলপাই উৎপাদন হয় স্পেন ও পর্তুগালে। সারা দুনিয়ায় যা জলপাই রফতানি হয় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *